কমরেড ডাঃ স্বপন চক্রবর্তীর মৃত্যু_মৃণাল চৌধুরী
কমরেড ডাঃ স্বপন চক্রবর্তীর মৃত্যু_মৃণাল চৌধুরী
কমিউনিস্ট পার্টি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সদস্য খ্যাতিমান হোমিও চিকিৎসক কমরেড স্বপন চক্রবর্তী আকস্মিকভাবেই চিরবিদায় নিলেন। গত ৯ জানুয়ারি ২০০৯ বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে। ৮ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টায় দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে চলে গেলেন রাঙ্গামাটি জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক, রাঙ্গামাটির বাম-প্রগতিশীল আন্দোলনের তত্ত্বাবধায়ক জননেতা কমরেড দিলিপ দেব।
দিলিপের বাঁচার কোন উপায় ছিল না। বৌদির ক্লান্তিহীন নির্ঘুম শ্রম, ছেলেমেয়েদের পালা করে সেবা, ভাইদের নিঃস্বার্থ দায়িত্ববোধ মৃত্যুকে কিছুদিন আটকে দিয়েছিল মাত্র। ভারত, ঢাকা চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রামে কয়েকটি ক্লিনিক ঘুরে শেষ যাত্রার আগে চট্টগ্রাম মেডিকেলে দিলিপ দেবের চিকিৎসা চলছিল। প্রতিদিনের চিকিৎসা খরচ প্রায় কয়েক হাজার টাকা। দিলিপের সাথে স্বপনের গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। দিলিপের অবস্থা সংকটাপন্ন খবর পেলেই স্বপন হাসপাতালে ছুটেছে এবং সম্ভবমতো অর্থ সাহায্য করেছে। স্বপন প্রায়সই নাকি আশ্বস্ত করতো দিলিপ অবশ্যই ভালো হয়ে উঠবে এবং দু’বন্ধুতে মিলে পাহাড়-হৃদ বেষ্ঠিত পর্যটন নগরী রাঙ্গামাটিতে ঘুরে বেড়াবে। ৮ জানুয়ারি সকালে দিলিপের মৃত্যুর পর থেকেই স্বপন যেন কেমন হয়ে যায়। সন্ধ্যার দিকে তার অসি'রতা বেড়ে যায়। চেম্বার সহকারীর ভাষায় একের পর এক ঔষধ খেতে থাকে। রাতে স্বভাবজাত ভোজনরসিক স্বপন ভাত, রম্নটি না খেলেও ৩/৪ টুকরো মুরগীর মাংস খেয়েছে। রাত ২টার দিকে সে গুরুত্বরভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়। দু’ছেলে চয়ন ও নয়ন সাধ্যমতো চেষ্টা করেও তার অসম্মতির কারণে তাকে হাসপাতালে নিতে পারেনি। সকাল ৯টায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে হাসপাতালৈ গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে জানতে পারি যে- ‘তাঁর অবস্তা গুরুতর এবং অনেক দেরী হয়ে গেছে’। বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে কমরেড স্বপন বন্ধু দিলিপের সাথে রাঙ্গামাটি পর্যটন কেন্দ্রে যেতে না পারলেও দিলিপকে দেওয়া কথার বরখেলাপ না করে একই পথের যাত্রী হয়েছে।
স্বপনের পিতার নাম যোগেদা রঞ্জন চক্রবর্তী (মাখমদা) মা বাসন্তি চক্রবর্তী। স্বপন, দিপীকা, তপন দু’ভাই এক বোনের মধ্যে স্বপন সকলের বড়। তপন চক্রবর্তী বাহরাইনের চাকরিরত। দিপীকা বিয়ের পর ১ম সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। বিপ্লবী তীর্থ চট্টগ্রামের ত্রিশের দশকের বিপ্লবী অভ্যুত্থান এবং ১৯৩৮ সালে চট্টগ্রামের কমিউনিস্ট পার্টির জন্মলগ্ন থেকে বৃটিশ ও পাকিস্তান আমলের পুরোটাই স্বপনদের পরিবারের ছিল গৌরবজনক ভূমিকা। স্বপনদের বাড়ি হাটহাজারী উপজেলার ফতেয়াবাদ গ্রামে। বাড়ির গাঁ ঘেষে চৌধুরী হাট রেল স্টেশন ও ফতেয়াবাদ কলেজ। বাবারা পাঁচ ভাই- যশোধা রঞ্জন চক্রবর্তী, মাখম’দা, রঞ্জন চক্রবর্তী, সুখদা রঞ্জন চক্রবর্তী, প্রিয়দা রঞ্জন চক্রবর্তী এবং যোগেদা রঞ্জন চক্রবর্তী (মাখমদা)। কমরেড যশোদা রঞ্জন চক্রবর্তী ছিলেন প্রকাশ্যে কংগ্রেস নেতা এবং চট্টগ্রামের গোপন অনুশীলন পার্টির শীর্ষ নেতা ১৯৩০-এ মাস্টার দা সূর্যসেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম যুববিদ্রোহের পর গ্রেফতার এড়ানোর জন্য চট্টগ্রাম শহর থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাশখালী উপজেলার বাণীগ্রাম সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তৎসময়ে পাথরঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিপ্লবী তৎপরতার জন্য দশম শ্রেণীর বহিষ্কৃত ছাত্র অনুশীলন পাটির বিপস্নবী কর্মী কমরেড অনঙ্গ সেনকে বাণীগ্রাম স্কুলে ভর্তি করিয়ে নিজের কাছে রাখেন। ১৯৩৯ সালে চট্টগ্রামে কমিউনিস্ট পার্টি জেলা কমিটি গঠিত হয়। কমরেড ননী সেনগুপ্ত গোপন পার্টির সম্পাদক হলেও কমরেড যশোদা রঞ্জন চক্রবর্তীকে প্রকাশ্য জেলা পার্টির সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। যশোদা বাবুর অন্য দু’ভাই কমরেড মোক্ষদা রঞ্জন চক্রবর্তী এবং কমরেড প্রিয়দা রঞ্জন চক্রবর্তীও জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন। এক পরিবারের তিন সহোদর এক সাথে কোন জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন বা আছেন এমন নজির আমার জানা নেই ৫০-এর দশকের শুরুতে সাম্প্রদায়িক নির্যাতনের কারণে অন্য ভাইয়েরা ভারতে চলে গেলেও যগোদা রঞ্জন চক্রবর্তী (মাখম’দা ) কিন্তু যাননি। পাকিসত্মান আমলের পুরোটাই তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য না হয়েও গোপন কমিউনিস্ট পার্টিকে আগলে রেখেছিলেন। তাঁদের ফতেয়াবাদের বাড়িটি হয়ে উঠেছিল কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান কার্যালয়। তখনকার ফতেয়াবাদকে বলা হতো ‘লাল ফতেয়াবাদ’। ১৯৬৭ সালের শেষের দিকে তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলা পার্টি সম্পাদক কমরেড অমর সেন দুরারোগ্য বসন্ত রোগে আক্রান্ত হলে কমরেড অনঙ্গ সেন তাঁকে ফতেয়াবাদ নিয়ে যান। শহর থেকে পার্টি সুহৃদ ডাঃ কালিপদ পালিত রাতের আঁধারে স্বপনদের বাড়ি নিয়ে অমর সেনের চিকিৎসা করতেন। ১৯৬৮ সালের ১১ জানুয়ারি কমরেড অমর সেনের মৃত্যু হলে সেখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। ১৯৬৮ থেকে ২০০৯। সুদীর্ঘ ৪১ বছর কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দ ও কর্মীবৃন্দ এই দিনে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যান। আসেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। শীতের সকালে উঠোনে পিঠে রোদ লাগাতে লাগাতে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত স্মরণসভা। অমর সেনের অকৃত্রিম বন্ধু মাখমদা এবং বাসনিত্ম বৌদির তত্ত্বাবধানে পরিবেশন করা হতো মুড়ি, মোয়া ও শীতের পিঠা। মাখম’দার মৃত্যুর পর সে দায়িত্ব কাঁদে তুলে নেয় স্বপন চক্রবর্তী। পুকুর পাড়ে তপনের অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে অমরদা’র মনোরম স্মৃতিসৌধ।
ফতেয়াবাদের গোপন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিত বিপস্নবীরা অনেকেই ছিল অবিবাহিত, অনেকেরই ছিল পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা। এদের স্নেহ-মমতায়, আদরে-সোহাগে বেড়ে উঠেছিল স্বপন, তপন, দিপীকা। তাদের কাছে চৌধুরী হারুনর রশিদ- হামিদ কাকু, কমরেড অমর সেন কামাল- কাকু, কমরেড অনঙ্গ সেন- নাছির কাকু- কমরেড পূর্নেন্দু কানুনগো-সেলিম কাকু- এ রকম অন্যরাও।
স্বপনদের পরিবারের প্রতি আমার নিজেরও রয়েছে অপরিসীম কৃতজ্ঞতবোধ। দেশ স্বাধীনের পর আমার ছাত্র রাজনীতি, লেখাপড়া, কারাভোগ সবই ছিল দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া কলেজ কেন্দ্রীক।
বাহাত্তুরের শুরুতে চট্টগ্রাম শহরে এসে খাওয়া-পড়ার অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়ে ট্রেড ইউনিয়নের সাথে যুক্ত হই। আন্দরকিল্লার মোড়ে ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের অফিসের মেঝে ঘুমানোর নিশ্চয়তা ছিল বটে কিন্তু দু’বেলা খাওয়ার সংকট ছিল প্রকট। ন্যাপ নেতা গৌরীশংকর পাল, ডাঃ হরিমোহন চৌধুরী (হোমিও বিজ্ঞানী হিসাবে খ্যাত), মাখমদা, কমরেড ই.এইচ. খান (কমরেড আহসান হাবিব খান লাভলুর বাবা), প্রখ্যাত রেল শ্রমিক নেতা এস এস হক- এদের বাসায় ঘুরে ফিরে খাওয়ার একটা নিশ্চয়তা ছিলই। দুপুরে ভাতের আশায় হয়ত কারো বাসায় গেছি, অনেক আশা নিয়ে তাদের ছোট শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে মা-দিদিমার মন ভেজাতে চেষ্টা করেছি। বেলা বয়ে যায়- তখন ভাতের বদলে গেরসত্মর পক্ষে যখন চায়ের কাপ নিয়ে এসে অতিথি বিদায়ের আয়োজন করে ভুক্তভোগী ছাড়া কারো পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। ক্ষুধার জ্বালা নিয়ে অবশেষে যখন স্বপনদের বাসায় গিয়েছি (বর্তমান চেম্বারের পেছন দিকটাই তখন বাসা হিসাবে ব্যবহৃত হতো) বাসন্তি বৌদির ভাতের থালা এগিয়ে দিয়েছেন। কখনো ভান করে খেয়েছি। চট্টগ্রাম শহরে রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে বেড়ে উঠার নিশ্চিত আশ্রয়দাতাই ছিলেন দাদা-বৌদি।
মার্কসবাদী দর্শনের উপর লেখাপড়া ছিল ডাঃ হরিমোহন চৌধুরীর। তার সাংগঠনিক ড়্গমতাও ছিল প্রচুর। বাংলাদেশে হোমিওপ্যাথিক পরিষদের তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা। তখনকার চট্টগ্রামের খ্যাতিমান হোমিও চিকিৎসক ডাঃ বীরেন কর, ডাঃ আমিনুল হক, ডাঃ যশোদা রঞ্জন চক্রবর্তীকে নিয়ে তিনি একটি গ্রম্নপ গঠন করেছিলেন। ডাঃ সি এম দাসও পরে গ্রম্নপের সাথে যুক্ত হন। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক পরিষদের কেন্দ্রীয় দফতর ছিল স্বপনদের চেম্বারটি এবং মাখমদাই দেশব্যাপী হোমিও চিকিৎসকদের সাথে যোগাযোগ এবং যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতেন। এ সকল গ্রুপ বৈঠকে আমারও বসার সুযোগ হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর স্বপন ষাটে পা দিত। সে হিসাবে তার সাথে আমার বয়সের ব্যবধান মাত্র দু বছরের। কিন্তু মা-বাবার সাথে সম্পর্কের কারণে আমি স্বপনের কাকুই ছিলাম।
১৯৮৫ সনে দীর্ঘদিন রোগ ভোগের পর মাখমদার মৃত্যু হয়। অজানা কারণে মাখমদার পার্টি সদস্য পদ ছিল না। শবযাত্রার পাঁচ মিনিট পূর্বে তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলা কমিটির উপসি'ত সদস্যবৃন্দ সিদ্ধানত্ম নিয়ে কাস্তে, হাতুড়ি খচিত বিপ্লবের লাল পতাকা দিয়ে তাঁর মরদেহ আচ্ছাদিত করে। ‘কমরেড’ সম্বোধনে মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে স্যালুট জানিয়ে যোগেশদা রঞ্জন চক্রবর্তীকে শেষ বিদায় জানান।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে মর্মান্তিমক মৃত্যুর পর হরি মোহনদা পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় চলে যান। তখন তিনি ভারত-বাংলাদেশে হোমিও বিজ্ঞানী হিসাবে প্রভুত খ্যাতি অর্জন করেছেন। ১৯৯০ সালে তিনি চট্টগ্রাম আসলে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে তিনিই বলেন- মাখমদার একছেলে বিদেশ গেছে বটে- অন্য ছেলেটিকে আপনারা পার্টিতে টানছেন না কেন? দুর্দিনে যারা গোপন পার্টিকে রড়্গা করেছে প্রকাশ্য পার্টিতে তাদের জায়গা হওয়া উচিত। স্বপন এবং তপনের মধ্যে মূলত তপনই ছাত্র ইউনিয়ন ও পার্টি কাজ কর্মে তৎপর ছিল। সে ছাত্র ইউনিয়ন জেলা কমিটিরও সদস্য ছিল। হোমিওপ্যাথিক কলেজের ছাত্র স্বপন ছিল অন্তর্মুখী। বাবার চেম্বারে বসে সে চিকিৎসা কাজে বাবাকেই সাহায্য করতো বেশী। কিন্তু হরিমোহনদার সাথে আলোচনার পর তাঁকে পার্টিতে টানা এবং সদস্যপদ দেওয়ার সিদ্ধানত্ম নিয়েছিলাম। মার্কসবাদী পার্টির মানবিক গুণাবলী, সততা, একাগ্রতা ও নীতিনিষ্ঠা, আত্মত্যাগের জন্য উন্মুখ ইত্যাদি গুণগুলি ছিল স্বপনের চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য। যদিও অতি মানবিকতার কারণে তার মধ্যে কিছু সাংগঠনিক নমনীয়তাও ছিল। যাই হোক স্বপনকে পার্টি সদস্য পদ দেওয়া হলো। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সে ছিল আন্দরকিল্লার শাখার সম্পাদক। কোতোয়ালী থানা কমিটির সদস্য ও জেলা কমিটির সদস্যের দায়িত্ব পালন করতো। পার্টির মুখপাত্র সাপ্তাহিক একতার দায়িত্বও ছিল তাঁর উপর। একতার বকেয়া টাকা আদায় না হলেও নিজ থেকে কেন্দ্রকে সে পরিশোধ করতো। ডাঃ স্বপনের চেম্বারটি যেন চট্টগ্রাম পার্টির ২য় কেন্দ্র। নবীন-প্রবীণ, নেতা-কর্মী ও শুভানুধ্যায়ী সকলের জন্য চিকিৎসা ফ্রি যেমন ছিল, ছিল ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা ও আপ্যায়নের আয়োজন। এমন অনেকে আছে যারা নানা কারণে পার্টির সাথে যোগাযোগ রাখতে উৎসাহবোধ করেন না কিন্তু স্বপনের চেম্বারে ছিল নিত্য হাজিরা। স্বপন ছিল ভোজন রসিক। তাঁর বাসাতে পার্টি বৈঠকের পূর্ণতা পেত রকমারি নাস্তা ও তরিতরকারীর আয়োজনের মাধ্যমে। সুদিনে-দুর্দিনে, সমাবেশে, মিছিলে তাঁর নিশ্চিত উপস্থিতি ছিলই। এমন এক সময়ে সে চলে গেলে যখন পার্টির জন্যতো বটেই, তাঁর দু’ছেলে চয়ন ও নয়নের জন্যও কয়েকটি বছর বাঁচার প্রয়োজন ছিল। চয়ন বাঙলা অনার্স ফাইনাল এবং নয়ন একাউন্টিং অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার্থী। দু’টো ব্যাংক একাউন্টে রয়েছে মাত্র সাঁইত্রিশ হাজার টাকা। তাঁর অবর্তমানে নিশ্চিতভাবে অনিশ্চয়তায় পড়ে গেলেন স্ত্রী রীণা চক্রবর্তী। একমাত্র ভাই তপনই ভরসা।
কমরেড স্বপন চক্রবর্তী মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত শ্রমিক কৃষকের মুক্তি তথা সমাজ বিপ্লনবের জন্য অকাতরে জীবন বিসর্জন দিয়েছে। যারাই তার সহচর্যে এসেছে তারাই তাঁর অকৃত্রিম ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছে। ছাত্র-যুব কর্মীদের কাছে সে ছিল অত্যন্ত প্রিয়ভাজন ও আপনজন। আত্মত্যাগী, প্রচার বিমুখ স্বপনের জীবন-সংগ্রাম তরুণ কর্মীদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। স্বপন চক্রবর্তী মরেও অমর, তাঁর স্মৃতির প্রতি লাল সালাম।
লেখক : সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি।

আরও পড়ুন
-
সত্যেন সেন : মেহনতি মানুষের এক পরম সুহৃদ_গোলাম মোহাম্মদ ইদু ২৮ মার্চ, সত্যেন সেনের জন্মশতবার্ষিকী। প্রয়াত সত্যেন সেন ১৯০৭ সালের ২৮ মার্চ...
-
সংগ্রামী জীবনশিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: এম এ আজিজ মিয়া বাংলা সাহিত্যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-১৯৫৬) এক বিস্ময়কর প্রতিভা, অনন্য...
-
কমরেড সরোজ দত্ত: বাসু আচার্য্য ১৩২১ বঙ্গাব্দের ২১’শে ফাল্গুন সরোজ দত্ত জন্মগ্রহণ করেন অবিভক্ত বাঙলার...
-
পূর্ণেন্দু দস্তিদার: অগ্নিযুগের বিপ্লবী পূর্ণেন্দু দস্তিদার। অগ্নিযুগের বিপ্লবী। সশস্ত্র বিপ্লবী। কিংবদন্তি বিপ্লবী...
-
কমরেড রতন সেনের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি: এস.এ রশীদ আজীবন সংগ্রামী, সর্বস্ব ত্যাগী, গরিব মেহনতি মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু কমরেড...
- 1
- 2
- 3
- 4
- 5
- 6
- 7
- 8
হিট পরিসংখ্যান






![]() | আজকের ভিজিটর সংখ্যা | 72 |
![]() | গতকালের ভিজিটর সংখ্যা | 272 |
![]() | এই সপ্তাহের ভিজিটর সংখ্যা | 72 |
![]() | গত সপ্তাহের ভিজিটর সংখ্যা | 1302 |
![]() | এই মাসের ভিজিটর সংখ্যা | 865 |
![]() | গত মাসের ভিজিটর সংখ্যা | 4654 |
![]() | সর্বমোট ভিজিটর | 29442 |
Your IP: 38.107.191.101
,
Today: Sep 05, 2010






